বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের সংসদীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে দুইজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়।
টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানকে নতুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শপথ গ্রহণ: বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান।
প্রেক্ষাপট: ইতিপূর্বে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় পদটি শূন্য হয়। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের নিয়োগ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলালকে নতুন করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্ব: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। মীর হেলাল এখন থেকে দুই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ সদস্যগণ সর্বসম্মতিক্রমে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেন।
শপথ: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পাঠ করান। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আসীন হওয়ার পর তাঁরা আর মন্ত্রিসভার সদস্য থাকতে পারেন না। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই মন্ত্রিসভায় এই দ্রুত রদবদল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী এই দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ আইনপ্রণেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই রদবদলের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ভূমি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভায় এই রদবদল প্রমাণ করে যে সরকার অত্যন্ত তৎপর এবং প্রশাসনিক শূন্যতা রাখতে চায় না। আহমেদ আযম খানের মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া এবং তরুণ নেতা মীর হেলালের ওপর আস্থা রাখা—উভয়ই রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামালের নির্বাচন সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করবে। তবে নতুন মন্ত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে চলমান প্রশাসনিক সংস্কার এবং জুলাই সনদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলোকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |